বিবিধ

কল্পলোকের গল্প নয়-১

কল্পলোকের গল্প নয়-১
সোনার হরিণ- এক আজ থেকে ৩৬/৩৭ বছর আগের কথা। মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে নাজু। এই কাহিনী তার জীবন থেকে নেয়া। নাজুর কথা শুরু করার আগে তার পরিবার সম্পর্কে কিছুটা ধারণা নেয়া যাক!  নাজুর মায়ের সাথে তার বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যাওয়ার পর ওরা তিন বোন বাবার সাথেই থেকে যায়। কারণ ওদের ভরণপোষণ করার কোন সামর্থ্যই তার মায়ের ছিলনা। যেখানে তিনি নিজেই আজ এর দুয়ারে কাল ওর দুয়ারে ঘুরে ফিরে থাকতে লাগলেন, সেখানে তিনি কিভাবে তিন তিনটি মেয়েকে নিজের কাছে রাখবেন!  ছাড়াছাড়ি হবার কারণ হল নাজুর মা কয়েক বছর ধরে মাঝে মধ্যে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। একজন পাগলের সাথে স্বাভাবিক সংসার জীবন যাপন সম্ভব নয়। ফলাফল.........তালাক।  নাজুর মা ছিলেন তার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রী এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে মারা গেলে তিনি নাজুর মাকে বিয়ে করলেন। দুই ঘরের পাঁচটি বাচ্চার দেখাশোনা এবং সংসার পরিচালনার জন্য তিনি তৃতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেন। এই স্ত্রীর ঘরে একটি মাত্র ছেলে হবার পর এই স্ত্রীও মারা গেলেন।  তার চতুর্থ স্ত্রীর ঘরে কোন সন্তান জন্ম না নিতেই বিয়ের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই এর সাথেও ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। পঞ্চম স্ত্রী হয়ে যিনি এই সংসারে আসলেন তিনি অত্যন্ত রূপবতী একজন মহিলা। দুই সন্তান রেখে তার আগের স্বামী মারা যাওয়ার পর তিনি বাবার বাড়ীতে থাকতেন। এক সময়ে নাজুর বাবার সাথে বিয়ের প্রস্তাব আসায় তার অভিভাবক তাকে এইখানে বিয়ে দিয়ে দেয়। বাচ্চা দুটি নানার বাড়িতেই থেকে যায়। এই সংসারে এসে তিনি শক্তহাতে হাল ধরেন। পাঁচটি ছেলেমেয়ে নিয়ে তার সংসার জীবন শুরু হল।  মাঝে মধ্যে তার নিজের সন্তানরাও এসে মায়ের কাছে দুইচার দিন বেড়িয়ে যায়। এই স্বামীর সংসারে তিনি একে একে চার সন্তানের মা হলেন। তিনটি ছেলে ও একটি মেয়ে। অর্থাৎ এই ঘরে তার সর্বমোট সন্তানের সংখ্যা হল দশ।  আগেই উল্লেখ করা হয়েছে নাজুর বড়মায়ের ঘরে একবোন ও এক ভাই। বোনটির বিয়ে হয়ে গিয়েছে। সে স্বামীর সংসারে বেশ ভালই আছে। এবার তার বাবা ভাইটিকেও বিয়ে করিয়ে দিলেন। নতুন বউ প্রথম প্রথম বেশ ভয়েই ছিল। সৎ শ্বাশুড়ীর সংসার না জানি কত সমস্যা হয়!  কিন্তু ধীরেধীরে সে দেখল তার শ্বাশুড়ী বেশ ভালো একজন মানুষ। ননদ দেবররাও সবাই বেশ মিশুক। খুবই ভালো। ফলে খুব সহজেই বউটি সবাইকে আপন করে ফেলল। শ্বাশুড়ী যেমন দশটি সন্তানকে নিয়ে নির্ভেজাল জীবন যাপন করছে, নতুন বৌও একইভাবে সবাইকে আপন করে নিলো। এত বড় সংসার নিয়ে শ্বাশুড়ী-বউয়ের বেশ ভালই দিন কাটছিল।  নাজুর মায়ের ঘরে ওরা তিনবোন। এই তিনজনের মধ্যে নাজু দ্বিতীয়। দশজনের মধ্যে নাজু চতুর্থ। নাজু ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় তার ঠিক আগের বোনটিকে ওর বাবা বিয়ে দিয়ে দেয়। এরই মধ্যে নাজুর ভাবীর একে একে চারটি বাচ্চা হয়ে গেছে। নাজু পড়ালেখায় খুব একটা ভালো না। এটা নিয়ে ওর নিজের বা অন্য কারোও খুব একটা মাথাব্যাথা নেই। সামাজিক আর দশটা নিয়মের মতই স্কুলে যায় আসে। ফলে ক্লাস এইটের বার্ষিক পরীক্ষার পর নিজ থেকেই স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দেয়।  সংসার এখন আগের চাইতেও অনেক বড়। নাজু এখন মা ও ভাবীর পাশাপাশি ছোট ভাইবোনদের ও বড় ভাবীর বাচ্চাদেরকে দেখাশোনা এবং সংসারের কাজে মা ও ভাবীকে সাহায্য করে। এভাবেই দিন কেটে যাচ্ছে।  এক নিকটাত্মীয়ের সাথে তার এক বন্ধু আনিস প্রায়ই নাজুদের বাসায় আসে। আনিসের বাসা পুরান ঢাকায়। নাজুদের চাইতে অর্থনৈতিক অবস্থা অনেক বেশি ভাল। নাজুদের অবস্থাও ভালো। তবে আনিসের পরিবারের মত নয়। নাজুদের পরিবারের সবার সাথে আনিসের সম্পর্ক বেশ ভাল।এত বড়লোকের ছেলে হয়েও মনে কোন অহংকার নেই। ওদের ভাইবোন সবার সাথেই বেশ ভালো সম্পর্ক। আনিস যখন আসে নাজু এবং অন্য ভাইবোনেরা তার সাথেই বেশিরভাগ সময় কাটায়। আনিসের কথাবার্তা, আচার- আচরণ সব কিছু দেখে নাজু খুব মুগ্ধ হয়। নাজুকেও আনিসের কাছে বেশ ভালো লাগে। ধীরেধীরে দুজনের এইভাললাগা ভালোবাসায় রূপ নেয়।  মা ও ভাবী যখন বিষয়টি টের পেল তখন পানি বহুদূর গড়িয়ে গেছে। শাসন তিরস্কার কোনকিছুই নাজুকে পিছু ফেরাতে পারেনা। একদিন সবার অগোচরে তারা লুকিয়ে বিয়ে করে ফেলল। [চলবে...... ইনশাআল্লাহ]

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নন।)
সম্পর্কিত ব্লগ