(দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত সাপ্তাহিক নারী পাতা-“মঞ্চের বাইরে” থেকে সংগ্রহীত তারিখ- ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৭)
নারীর নিরাপত্তা কোথায়?
আফসানা কিশোয়ার
মহামারী আকারে দেখা দিয়েছে, সবাই পশু হয়ে গেছে, ভোগ্যপণ্য হয়ে গেছে- এমন উক্তি আজকাল আমরা করি যখনই কোনো নারী বা শিশু নির্যাতন ঘটে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়াবাসী পায় পোস্ট করার উপলক্ষ, একটু সচেতনরা পায় নতুন করে উদ্বিগ্ন হওয়ার উপাদান, চ্যানেলে চ্যানেলে চলে টকশোর সমাহার।
হঠাৎ করে কী হলো দেশে যে, ধ...-গণধ... মহোৎসব হয়ে উঠেছে!
আমরা বলি, ঘটনা আগেও ছিল, তবে ছিল না প্রচার-প্রকাশের এত দ্রুতগতির পন্থা।
কোথায় আমাদের ঔদাসীন্য, কিসের কার্পণ্য থেকে যাচ্ছে যে, এ ক্ষত শুধু বেড়েই চলেছে? নির্দিষ্ট উত্তর আমারও জানা নেই। কথা প্রসঙ্গে একটা বিষয় মনে পড়ল।
বেশ কয়েক মাস আগে একটি টেকনোলজি বেজড জমায়েতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় আমার। গোটা পঞ্চাশেক মানুষ মিলিত হয় সেখানে।
এর ভেতর বক্তা হল সম্পূর্ণ অন্ধকার করে দেন। তারপর বলতে থাকেন, ২০ জন ভলান্টিয়ার নিজেদের চেহারা দেখা যাবে না এভাবে যার যার স্ট্মার্টফোনসহ ডায়াসের পেছন দিয়ে আসবেন। এরপর বক্তা সম্পূর্ণ অন্ধকারে বক্তব্য শুরু করেন এবং বলতে থাকেন, ২০ জন ভলান্টিয়ার নিজেদের চেহারা না দেখিয়ে স্ট্মার্টফোনসহ ডায়াসের পেছন দিয়ে আসবেন। ভলান্টিয়ারদের সম্মতিক্রমে তাদের স্ট্মার্টফোন চেক করা হবে।
স্বেচ্ছাসেবকরা (ভলান্টিয়ার) পুরুষ-নারী মিলিয়েই
সেখানে যান এবং নিজ নিজ স্ট্মার্টফোন জমা দেন বক্তাকে। তাদের জি-মেইল অ্যাক্টিভিটির এক মাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশই জনপ্রতি মাসে অন্তত চারবার বিভিম্ন পর্নো সাইটে ঢুকেছেন, কেউ কেউ ঢুকেছেন চটি সাইটে। তাদের ২০ জনের ভেতর ৫ জন বাসায় ওয়াইফাই ব্যবহার করেন, বাকি ১৫ জন মোবাইল ডাটা ইউজ করে নেট চালান। পুরুষদের পর্নো দেখার হার তুলনামূলক বেশি। এ পরিসংখ্যান বদ্ধ রুমের, মাত্র ২০ জনের, এর ভিত্তিতে কোনো উপসংহার টানা বোকামি।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তার সঙ্গে এ বিষয়টি কীভাবে সংশ্নিষ্ট?
উত্তেজক কোনো কিছু দেখলে,পড়লে বা শুনলে আমাদের শরীরে হরমোনের নানা ইকুয়েশন তৈরি হয়। তখন তা নির্বাপণের আকাগ্ধক্ষাও আসে, সেখান থেকে মস্তিস্কে তাড়না তৈরি হয় দেহের উত্তেজনা যেনতেনভাবে প্রশমনের। ২০ টাকায় মেমোরি কার্ড ভর্তি করে দোকান থেকে তরুণরা আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যাচ্ছে, তারপর চলছে একজনের সঙ্গে আরেকজনের সেই ভিডিও শেয়ার। এভাবে এক অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে আমরা স্বাভাবিক মানুষের ভান করে চলছি। যে তরুণ বা তরুণী একটি আপত্তিকর ভিডিও দেখে ক্লাস করতে বের হচ্ছে তখন তার চোখে সব বয়সের মানুষই আসলে সম্ভাব্য খাদ্য বলে প্রতীয়মান হয়।
এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী, আমরা হলভর্তি সেই ৫০ জন জিজ্ঞেস করেছিলাম বক্তাকে, তিনি উত্তরে বলেছিলেন, আত্মোপলব্ধি মনুষ্যসঙ্গ।
শিশু ও নারীরা কেন নিরাপত্তাহীন? কারণ তাদের সেন্স ডিফেন্সের জ্ঞান কম। শিশু ও নারীদের আমরা গড়ে উঠতে দিই এই মানসিকতা নিয়ে যে, তোমার নিরাপত্তা অন্য আরেকজন দেবে। তাই তারা থাকে অসতর্ক। সেই অসতর্কতাই আক্রমণকারীর জন্য হয়ে ওঠে হাতিয়ার, অকস্ট্মাৎ যে কোনো কিছুতে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি, রিফ্লেক্স কাজ করে না, আক্রমণকারী তখন জয় পেয়ে যায়।
আপনি এখন আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন নিজের বাসায়ও তো শিশু ও নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, সে ক্ষেত্রে কী করণীয়? শিশুদের জন্য সর্বস্বীকৃত টিপস হচ্ছে তাকে তার শারীরিক গঠন বোঝানো, ভালো স্পর্শ খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, তার ভালো লাগছে না এমন কোনো ব্যক্তির কাছে না যাওয়া, যে কোনো বিপদে জোরে চিৎকার করে জানান দেওয়া।
শিশুকে বোঝাতে হবে, বিপদে কোনো রাজকুমার বা সুপার হিরো এসে তোমাকে কোনো কিছু উদ্ধার করবে না। তুমিই তোমার সুপার হিরো। তোমার অপছন্দের ঘটলে আম্মু বা আব্বু অথবা কাছের কেউ না থাকলে তোমাকেই আত্মরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। স্কুলে এ টিপস বাচ্চাদের টিচাররাই দিতে পারেন। যারা স্কুলের আওতার বাইরে তাদের এলাকাভিত্তিক অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে বা মোবাইলে ছোট ভিডিও দেখানো যেতে পারে।
নারীর জন্য টিপসের শেষ নেই। আসলে এ টিপসগুলো দরকার পুরুষের, কী কী নিয়ম পালন করলে বা মেনে চললে সে একজন ধর্ষক হয়ে উঠবে না-
ষনারীর শারীরিক গঠনের বাইরে নারীর পরিচয় সে একজন মানুষ- তা মনেপ্রাণে মস্তিষ্কে বিশ্বাস করা।
ষজোর-জবরদস্তির সঙ্গম শিশু বা নারীর সঙ্গেই হোক; তা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা।
ষনিজের রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা।
ষদল বেঁধে নীল ছবি, পর্নো না দেখা। সেই সঙ্গে নেশা দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা
ষচোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা।
ষকে, কী পরেছে বা কার-কী করা উচিত তা না ভেবে নিজে কী করছি সেদিকে নজর দেওয়া।
প্রিয় নারী, বাইরে বের হলে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। হেডফোন কানে গুঁজে চলবেন না। অনবরত নিজের চারপাশে খেয়াল রাখু...। যে যানে চড়ছেন তার যাত্রীদের দিকে তাকান। নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রতি ভরসা রাখু...। মস্তিস্ক যে মুহূর্তে বলছে- ওই মানুষটি আপনার বিপদের কারণ হতে পারে, দ্রুত সরে পড়ুন, সরতে না পারলে আওয়াজ করুন। হকচকিয়ে যাবেন না। নিজের চারপাশকে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আপনার বিপদ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেবে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেম বা বন্ধুত্বের টানে অথবা মোবাইলে আলাপের সুবাদে কোথাও যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অন্তত দু'জন বিশস্ত মানুষকে আপনার গন্তব্যের কথা জানিয়ে যান। আপনার ঘরে যে নির্যাতন হচ্ছে; তা থেকে আপনি মুক্ত হতে চান কি-না তা আগে ঠিক করুন, তাহলে আপনার মুক্তি মিলবে।
দিন শেষে মনে রাখা এটাই জরুরি, আমার নিজেকে রক্ষা করার দায়িত্ব সর্বাগ্রে আমারই।
নারী, শিশু (মেয়ে বা ছেলে) যে-ই হোক তাদের প্রতি করা নির্যাতনের শাস্তি যদি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ৯০ দিনের মধ্যে করা যায় এবং ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃতু্যদ-ের বিধান রাখা যায় তাহলে অনেকের অশান্ত হরমোন শান্ত হয়েও যেতে পারে ভয়ে। রাষ্ট্র যদি তার সদিচ্ছা নিয়ে নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়ায়, ধ...কে অপরাধ হিসেবে শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব অর্থেই বিবেচনা করে তাহলে আমাদের বিশ্বাস, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এ দেশেই, এ দেশের প্রতিটি ঘরে, রাস্তায়, যানবাহনে; অন্য কোথাও নয়। সরকার যদি আত্মবিশ্বাসী হয় যে, দল-মত-পেশা-প্রভাব কোনো কিছুই ধর্ষকের বিচারের অন্তরায় নয়, তাহলে নারীর নিরাপত্তা বাংলাদেশেই অসম্ভব নয়।
দেশের মানুষ যদি আন্তরিক হয় তাহলে নির্যাতনের শিকার মানুষের প্রতি তর্জনী না তুলে নির্যাতনকারীর দিকে লাথি তুলে, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বাংলাদেশেই নিশ্চিত হবে। শুধু লেবাসের কারণে কাউকে বেনিফিট অব ডাউট দেওয়া- সে মাদ্রাসার বড় হুজুর, সে বলাৎকার করতেই পারে না, এমন মনোভাব যদি পরিহার করা যায় তবে শিশুর নিরাপত্তা বাংলাদেশেই নিশ্চিত হবে- এ আমি আমার দুটি হাত বুকের ওপর রেখে যত দূর কণ্ঠ যায় তত দূর চিৎকার করে বলার সাহস রাখি।
হঠাৎ করে কী হলো দেশে যে, ধ...-গণধ... মহোৎসব হয়ে উঠেছে!
আমরা বলি, ঘটনা আগেও ছিল, তবে ছিল না প্রচার-প্রকাশের এত দ্রুতগতির পন্থা।
কোথায় আমাদের ঔদাসীন্য, কিসের কার্পণ্য থেকে যাচ্ছে যে, এ ক্ষত শুধু বেড়েই চলেছে? নির্দিষ্ট উত্তর আমারও জানা নেই। কথা প্রসঙ্গে একটা বিষয় মনে পড়ল।
বেশ কয়েক মাস আগে একটি টেকনোলজি বেজড জমায়েতে যাওয়ার সৌভাগ্য হয় আমার। গোটা পঞ্চাশেক মানুষ মিলিত হয় সেখানে।
এর ভেতর বক্তা হল সম্পূর্ণ অন্ধকার করে দেন। তারপর বলতে থাকেন, ২০ জন ভলান্টিয়ার নিজেদের চেহারা দেখা যাবে না এভাবে যার যার স্ট্মার্টফোনসহ ডায়াসের পেছন দিয়ে আসবেন। এরপর বক্তা সম্পূর্ণ অন্ধকারে বক্তব্য শুরু করেন এবং বলতে থাকেন, ২০ জন ভলান্টিয়ার নিজেদের চেহারা না দেখিয়ে স্ট্মার্টফোনসহ ডায়াসের পেছন দিয়ে আসবেন। ভলান্টিয়ারদের সম্মতিক্রমে তাদের স্ট্মার্টফোন চেক করা হবে।
স্বেচ্ছাসেবকরা (ভলান্টিয়ার) পুরুষ-নারী মিলিয়েই
সেখানে যান এবং নিজ নিজ স্ট্মার্টফোন জমা দেন বক্তাকে। তাদের জি-মেইল অ্যাক্টিভিটির এক মাস পর্যালোচনা করে দেখা যায়, অধিকাংশই জনপ্রতি মাসে অন্তত চারবার বিভিম্ন পর্নো সাইটে ঢুকেছেন, কেউ কেউ ঢুকেছেন চটি সাইটে। তাদের ২০ জনের ভেতর ৫ জন বাসায় ওয়াইফাই ব্যবহার করেন, বাকি ১৫ জন মোবাইল ডাটা ইউজ করে নেট চালান। পুরুষদের পর্নো দেখার হার তুলনামূলক বেশি। এ পরিসংখ্যান বদ্ধ রুমের, মাত্র ২০ জনের, এর ভিত্তিতে কোনো উপসংহার টানা বোকামি।
নারী ও শিশুর নিরাপত্তার সঙ্গে এ বিষয়টি কীভাবে সংশ্নিষ্ট?
উত্তেজক কোনো কিছু দেখলে,পড়লে বা শুনলে আমাদের শরীরে হরমোনের নানা ইকুয়েশন তৈরি হয়। তখন তা নির্বাপণের আকাগ্ধক্ষাও আসে, সেখান থেকে মস্তিস্কে তাড়না তৈরি হয় দেহের উত্তেজনা যেনতেনভাবে প্রশমনের। ২০ টাকায় মেমোরি কার্ড ভর্তি করে দোকান থেকে তরুণরা আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যাচ্ছে, তারপর চলছে একজনের সঙ্গে আরেকজনের সেই ভিডিও শেয়ার। এভাবে এক অসুস্থ মানসিকতা নিয়ে আমরা স্বাভাবিক মানুষের ভান করে চলছি। যে তরুণ বা তরুণী একটি আপত্তিকর ভিডিও দেখে ক্লাস করতে বের হচ্ছে তখন তার চোখে সব বয়সের মানুষই আসলে সম্ভাব্য খাদ্য বলে প্রতীয়মান হয়।
এ থেকে পরিত্রাণের উপায় কী, আমরা হলভর্তি সেই ৫০ জন জিজ্ঞেস করেছিলাম বক্তাকে, তিনি উত্তরে বলেছিলেন, আত্মোপলব্ধি মনুষ্যসঙ্গ।
শিশু ও নারীরা কেন নিরাপত্তাহীন? কারণ তাদের সেন্স ডিফেন্সের জ্ঞান কম। শিশু ও নারীদের আমরা গড়ে উঠতে দিই এই মানসিকতা নিয়ে যে, তোমার নিরাপত্তা অন্য আরেকজন দেবে। তাই তারা থাকে অসতর্ক। সেই অসতর্কতাই আক্রমণকারীর জন্য হয়ে ওঠে হাতিয়ার, অকস্ট্মাৎ যে কোনো কিছুতে আমরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি, রিফ্লেক্স কাজ করে না, আক্রমণকারী তখন জয় পেয়ে যায়।
আপনি এখন আমাকে প্রশ্ন করতে পারেন নিজের বাসায়ও তো শিশু ও নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, সে ক্ষেত্রে কী করণীয়? শিশুদের জন্য সর্বস্বীকৃত টিপস হচ্ছে তাকে তার শারীরিক গঠন বোঝানো, ভালো স্পর্শ খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে ধারণা দেওয়া, তার ভালো লাগছে না এমন কোনো ব্যক্তির কাছে না যাওয়া, যে কোনো বিপদে জোরে চিৎকার করে জানান দেওয়া।
শিশুকে বোঝাতে হবে, বিপদে কোনো রাজকুমার বা সুপার হিরো এসে তোমাকে কোনো কিছু উদ্ধার করবে না। তুমিই তোমার সুপার হিরো। তোমার অপছন্দের ঘটলে আম্মু বা আব্বু অথবা কাছের কেউ না থাকলে তোমাকেই আত্মরক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে। স্কুলে এ টিপস বাচ্চাদের টিচাররাই দিতে পারেন। যারা স্কুলের আওতার বাইরে তাদের এলাকাভিত্তিক অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রামের অন্তর্ভুক্ত করে প্রোজেক্টরের মাধ্যমে বা মোবাইলে ছোট ভিডিও দেখানো যেতে পারে।
নারীর জন্য টিপসের শেষ নেই। আসলে এ টিপসগুলো দরকার পুরুষের, কী কী নিয়ম পালন করলে বা মেনে চললে সে একজন ধর্ষক হয়ে উঠবে না-
ষনারীর শারীরিক গঠনের বাইরে নারীর পরিচয় সে একজন মানুষ- তা মনেপ্রাণে মস্তিষ্কে বিশ্বাস করা।
ষজোর-জবরদস্তির সঙ্গম শিশু বা নারীর সঙ্গেই হোক; তা অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা।
ষনিজের রিপুকে নিয়ন্ত্রণ করতে শেখা।
ষদল বেঁধে নীল ছবি, পর্নো না দেখা। সেই সঙ্গে নেশা দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকা
ষচোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা।
ষকে, কী পরেছে বা কার-কী করা উচিত তা না ভেবে নিজে কী করছি সেদিকে নজর দেওয়া।
প্রিয় নারী, বাইরে বের হলে ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকবেন না। হেডফোন কানে গুঁজে চলবেন না। অনবরত নিজের চারপাশে খেয়াল রাখু...। যে যানে চড়ছেন তার যাত্রীদের দিকে তাকান। নিজের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয়ের প্রতি ভরসা রাখু...। মস্তিস্ক যে মুহূর্তে বলছে- ওই মানুষটি আপনার বিপদের কারণ হতে পারে, দ্রুত সরে পড়ুন, সরতে না পারলে আওয়াজ করুন। হকচকিয়ে যাবেন না। নিজের চারপাশকে পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আপনার বিপদ ৩০ শতাংশ কমিয়ে দেবে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রেম বা বন্ধুত্বের টানে অথবা মোবাইলে আলাপের সুবাদে কোথাও যাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অন্তত দু'জন বিশস্ত মানুষকে আপনার গন্তব্যের কথা জানিয়ে যান। আপনার ঘরে যে নির্যাতন হচ্ছে; তা থেকে আপনি মুক্ত হতে চান কি-না তা আগে ঠিক করুন, তাহলে আপনার মুক্তি মিলবে।
দিন শেষে মনে রাখা এটাই জরুরি, আমার নিজেকে রক্ষা করার দায়িত্ব সর্বাগ্রে আমারই।
নারী, শিশু (মেয়ে বা ছেলে) যে-ই হোক তাদের প্রতি করা নির্যাতনের শাস্তি যদি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ৯০ দিনের মধ্যে করা যায় এবং ইলেকট্রিক চেয়ারে বসিয়ে মৃতু্যদ-ের বিধান রাখা যায় তাহলে অনেকের অশান্ত হরমোন শান্ত হয়েও যেতে পারে ভয়ে। রাষ্ট্র যদি তার সদিচ্ছা নিয়ে নারী ও শিশুর পাশে দাঁড়ায়, ধ...কে অপরাধ হিসেবে শুধু কাগজে-কলমে নয়, বাস্তব অর্থেই বিবেচনা করে তাহলে আমাদের বিশ্বাস, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা এ দেশেই, এ দেশের প্রতিটি ঘরে, রাস্তায়, যানবাহনে; অন্য কোথাও নয়। সরকার যদি আত্মবিশ্বাসী হয় যে, দল-মত-পেশা-প্রভাব কোনো কিছুই ধর্ষকের বিচারের অন্তরায় নয়, তাহলে নারীর নিরাপত্তা বাংলাদেশেই অসম্ভব নয়।
দেশের মানুষ যদি আন্তরিক হয় তাহলে নির্যাতনের শিকার মানুষের প্রতি তর্জনী না তুলে নির্যাতনকারীর দিকে লাথি তুলে, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা বাংলাদেশেই নিশ্চিত হবে। শুধু লেবাসের কারণে কাউকে বেনিফিট অব ডাউট দেওয়া- সে মাদ্রাসার বড় হুজুর, সে বলাৎকার করতেই পারে না, এমন মনোভাব যদি পরিহার করা যায় তবে শিশুর নিরাপত্তা বাংলাদেশেই নিশ্চিত হবে- এ আমি আমার দুটি হাত বুকের ওপর রেখে যত দূর কণ্ঠ যায় তত দূর চিৎকার করে বলার সাহস রাখি।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নন।)