সাহিত্য

শুকনোপাতার কথামালা-২

শুকনোপাতার কথামালা-২

সময় মানুষ কে শান্ত রাখে না যদি তার সাথে জ্ঞানের সমন্বয় না থাকে। এটা বুঝতে বুঝতে এতোদূরে আসতে হলো!
চারিপাশে অজস্র কথা কিন্তু আমার বলার কিছুই নেই! অথবা আছে কোথাও লুকিয়ে, তাকে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছি কোন এক সাধারণ দিনের অপেক্ষায়!


রমাদ্বানে যেসব বাবা-মা কে একা একা ইফতার করতে হয়,তাদের কথা আজকাল খুব মনে পড়ে! আমার বৃদ্ধকালটা কেমন যাবে? মার্চের এই মাঝামাঝি সময় টা তে এসে,বসন্ত এসে গেছে অনুভূতি কাজ করে! শীতের আদ্রতারা গা ঝারা দিয়ে চলে যায়,তাপমাত্রার মাত্রা বেড়ে শীতল বাতাসে প্রাণ জুড়াবার যে অনুভূতি টা,ওটাই তো বসন্ত!


দিনের কাজের রুটিনটা বদলেছে,সকাল ১০টা থেকে ১২.৩০টার মধ্যে রান্নাঘরের কাজ এক দফা ফুরোয়,এরপর বাচ্চাদের কাজ নিয়ে বসা এরপর আবার রান্নাঘরে। প্রতি দফায় কাজ শেষ করে একটা বড় করে নি:শ্বাস নেই। এই যে কাজ গুলো একদিন এগুলো করার সময় ও চলে যাবে,শরীর সায় দিবে না,নতুন প্রজন্ম আসবে,তখন কি করবো? অলস প্রায় বৃদ্ধকালের দীর্ঘ জীবন যেনো না আসে!


শুধুই ঘরকন্না কাজে জুড়ে থাকা মানুষের গবাক্ষে আকাশ একটাই হয়। আপাতত আমার জন্য সেটা সোশ্যাল মিডিয়া!  সেখানেও অজস্র অস্থিরতা। এরমধ্যেও কেউ কেউ থাকেন,যারা এক টুকরো প্রশান্তি হয়ে আসেন। তাদের দেয়া সেই প্রশান্তিটুকু নিয়ে আবার নতুন করে ভাবতে বসি। জানার সীমাবদ্ধতা আর চিন্তার সংকীর্ণতা নতুন করে নাড়া দিয়ে যায়।
পুরনো যা কিছু জীবনে রেখে আসা অতীত তার মধ্যে "শাহাবাগী আন্দোলন" একটা বিশাল অধ্যায়। ২০১৩ সালটা কিভাবে শুরু হয়েছিলো মনে নেই কিন্তু ফেব্রুয়ারী মাসের প্রতিটি সকাল গুমরে থাকা কান্নায় জড়ানো ছিলো। মনে হতো,আজকের সকালটা যদি না আসতো!
চোখের সামনে সমস্ত কিছুর বদলে যাওয়া,রক্তাক্ত সেই অধ্যায়,জীবনে বিশাল পরিবর্তন এনেছিলো বটে আবার হারিয়েছিলো অনেক কিছুই। আজকাল সেই সময় টা নিয়ে আলাপ চলে বেশ। আমার তো,অস্তিত্বের আরেকটা অংশকে হারিয়ে ফেলার শোক ই ফুরোয়না তার সাথে এই পুরনো স্মৃতির নাড়াচাড়া! দম বন্ধ লাগে শুধু।


সমস্ত কিছু কে নিজের কাছে আগলে রাখতে চাওয়া একটা ত্রুটিযুক্ত চিন্তা। বিশেষ করে মানুষ কে তার সমস্ত দিক ধরে আগলে রাখতে চাওয়াটা বিশাল এক অযোগ্যতা বটে। জীবনের একটা সময় এর জন্য ভয়ংকর ভাবে আফসোস করতে হয়,শাস্তিও পেতে হয়। মানুষ কেবল তার নিজের জন্য থাকাটাই নিরাপদ এবং সহজ। অন্য কাউকে দখলে রাখতে চাইলেই নিজেকেই খুয়ে ফেলতে হয় লোভের তাপে। 
কিন্তু ক্ষমতা বোধ কিংবা নিজেকে মূল্যবান ভাবতে চাওয়ার আকাংখা থেকেই হোক,মানুষ বেশির ভাগ সময় এভাবেই ভাবে। পানিতে থাকা হাঁসের মতো ডাংগায় উঠেই গা ঝারা দিয়ে একদম ঝরঝরে হয়ে থাকতে প্রায় সবাই ই চায় না।


যে জ্ঞানটা অনেক গুলো অভিজ্ঞতার পর একটা বয়সে এসে পাওয়া যায়,সেটা জোর করে অন্যের উপর চাপিয়ে দেয়া কি ঠিক? কেন বুঝতে চায় না মন?

#শুকনোপাতার_রাজ্য 


আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নন।)