এই আলোয় মোড়া পথ, আমার প্রতিদিনের রাস্তা নয়। এ পথের ধূলোগুলো সত্যিকারের, শহরের সভ্যতার ক্ষয়ে পড়া বিবর্ণ অবশেষ নয়।
চোখে ভাইয়ের মেয়েটার মুখ, এইটুক, হাতের তালুর মত, খুব ভাবছি না, চোখ ভিজে যায়। বাবুটা অসহায় পানিতে ভাসছে না, চোখ বন্ধ করে শেষ ঘুমে নেই।
সান্ত্বনা? হবেওবা!
আম্মুর ক্লান্ত কাঁধে ঠোঁট ছুঁয়ে বের হয়ে গেছি দ্রুত। দুই হাতে দুই আত্নজ। এবার আমার নাটক, এখানে আমার ভূমিকা মূখ্য। নেপথ্য ডিরেক্টর চোখ রাঙাচ্ছে, এ বয়সেও বিদায় নিতে কাঁদে নাকি কেউ?
আকাশে দুই স্তরের মেঘ। অনেক উপরে ঝকঝকে তুলোর মত, আর কাছের গুলো অভিমানী, গোমড়া মুখ।
আমাদের কাঁধে, কপালে যার যার নিজস্ব 'আসর'- সময়, বেঁধে দেয়া। আমরা একে সার্থক করতে, একে সাজাতে, ফুরিয়ে যাবার আগে এর চিহ্ন রেখে যেতে দৌড়াই। দ্রুত চলা পায়ে তাড়া, একবারে চলে যাবো বলেই। মানুষ নশ্বর। অমর হলে এত দৌড়াতো না। আবার এ মানুষই খলীফা, ফেরার ব্যগেও রসদ গোছাতে হয়, অবিরাম দৌড়ের মাঝে।
পথের শেষ মাথায় আরেক মায়াবতী অপেক্ষা করে আছে। কিছুক্ষণ পরপর ফোনে উত্তেজিত কন্ঠ শুনিয়ে যাচ্ছেন, হয়ত বিছানার চাদর বদলে দিচ্ছেন, চুলায় রান্না।
বাস বৃষ্টির পর্দা ভেদ করে যায়। জানালায় লহর নেমেছে। দিন শেষ।
কোণাকুণি সামনের সিটে বসা ছেলেটা ফোনে Abbu লেখা কনট্যাক্টটা বের করে তাকিয়ে আছে, ফোন করছে না। বাড়িতে এবার বাবা নাই, ঈদের দিন কেমন লাগবে? জানিনা।
এই সন্ধ্যাটা ভালো না। এই সন্ধ্যাটা বিষন্ন। ছোট ভাইটার মুখটার মত, ওই যে ভেসে আসা পরিবারটার মত, বানভাসী শিশুটার মত। এই সন্ধ্যাটা রাত হয়ে যাক, আরেকটা দীর্ঘ রাত।
আপনার মতামত দিন:
(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নন।)