উইমেন (সামাজিক,মানসিক,সুবিধা বঞ্চিত নারী)

করুণা

করুণা
পর্ব-৩ মৌমিতারা যে পাড়ায় থাকে সেই পাড়ার নাম প্রফেসর পাড়া। থানা শহরের প্রানকেন্দ্রে অবস্থান এই পাড়াটির। এই পাড়ার ঠিক পেছন দিকে একটা বিশাল খেলার মাঠ।  মাঠ থেকে বেশ দূরে রেললাইন। মৌমিতাদের পরিবারের সদস্য চারজন, ওরা দুবোন আর বাবা মা। মাঈশা মৌমিতা দুজনই ক্লাস ফাইভে পড়ে, ওরা এক বছরের ছোট বড়। সকালবেলা, খাবার টেবিলে মৌমিতা আর মাঈশা। ওরা মিতালীর ব্যাপারে কথা বলছে। ওদের মা সাহানা খন্দকার বিরক্ত ভরা কন্ঠে, -তোমরা খাচ্ছনা কেন? আর এতো ফিসফিস করে কী বলছো? মৌমিতা দ্রুত খাবার মুখে দিয়ে, -নাহ! কিছুনা এমনি। মা তুমি খাবেনা? -এখন না পরে। তোমরা দ্রুত খেয়ে নাও স্কুল যেতে হবেতো! -আচ্ছা, ঠিক আছে, খাচ্ছি। মাঈশা দরদভরা কন্ঠে, -মা তুমি কখন খাও আমরা তো দেখিইনা, আমাদের সাথে খেয়ে নাও! সাহানা খন্দকার অবাক হয়ে মেয়ের দিকে তাকায়, -ব্যাপার কী হ্যা? হঠাৎ এতো ভালোবাসা! -না কিছুনা, ইচ্ছে হলো তাই। -ঠিক আছে রাতে খাবো তোমাদের সাথে, এখন আমার অনেক কাজ। সাহানা খন্দকার রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। মাঈশা মায়ের পথের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকে, তারপর ফিসফিসিয়ে, -আমি মাকে কয়েকদিন ঐ রেললাইনের ওপারে যেতে দেখেছি! হাতে একটা পোটলা নিয়ে! বিস্মিত দৃষ্টি মৌমিতার, -তাই?! আমাকে বলিসনিতো! -মা চুপিচুপি যায় তাই আমিও বলিনি। আর সম্ভবত মা ব্যাপারটা বাবাকে জানাতে চায়না। বাবা সব বিষয়ে একটু বেশী বকাবকি করেনা? -ও! কিন্তু কেন যায়? কী করতে দেখতে হবে! আর মিতালীর সাথে মায়ের একটা সংযোগ নিশ্চয়ই আছে, কারণ ঐ দিকে অন্য কোন বাড়ী বা ঘর নেই, শুধু একটায় ঘর। তুই কখন মাকে যেতে দেখেছিস? - ভোরবেলা আমি একদিন বাথরুমে যাওয়ার সময়, মাকে না পেয়ে মার পিছু পিছু মাঠ অব্দি গিয়ে কিছুক্ষণ দাড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু ঘুমের জন্য বেশীক্ষণ দাঁড়াতে পারিনি।একটু থেমে মাঈশা, কিভাবে দেখবি? -তুই যেভাবে দেখেছিস! এখন আর কিছু বলিসনা আয় খেয়ে নিই। সাহানা খন্দকার রান্নাঘর থেকে ওদের দিকে খেয়াল রেখেছিলো, কিন্তু কোন কথায় শুনতে পায়নি। এতটুকু বুঝেছে ওরা নিশ্চয় কোন প্লান করছে। চলবে...............

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নন।)
সম্পর্কিত ব্লগ