উইমেন (সামাজিক,মানসিক,সুবিধা বঞ্চিত নারী)

সময়ের ঘোলাটে আয়নায় নারীর প্রতিচ্ছবি-নারী, তুমি কে?

সময়ের ঘোলাটে আয়নায় নারীর প্রতিচ্ছবি-নারী, তুমি কে?
“নহ জায়া,নহ কন্যা,নহ ঘরণী নহ চৌকাঠ জুড়ে থাকা কোন রমণী তুমি অন্য কিছু ... ...” এই প্রশ্নের জবাব কি? অনাগত ঈভের প্রতীক্ষায় উদাস এডাম থেকে শুরু করে ল্যপটপের সামনে বসে থাকা একবিংশ শতাব্দীর কবি, সবার মনে এই একই দ্বিধা। নারী কি? এরিস্টটলের মতে, নারী পূর্ণাঙ্গ মানুষই না! তাহলে কি? এই অবমানবের গর্ভ থেকেই যে মহামানবের জন্ম, সে মহামানব এমন দ্বিধায় ভুগলেন কেন? নারীর অস্তিত্ব, মর্যাদা নিয়ে সভ্যতার ধারকদের গবেষণার শেষ নেই। কিন্তু নারী চলেছে তার নিজের পথে, কখনও নিজের তৈরী করে নেয়া পথে। থেমেছে, আবার চলেছে, আবার থেমেছে, কারণ তাকে থামতে হয়েছে। নারী পুরুষ নির্বিশেষে সবাইকে পৃথিবীতে আনার জন্যই তাকে যে নমনীয়তা দেয়া হয়েছে, তার শরীরে দেয়া হয়েছে তার নিজের জন্য প্রয়োজনহীন বাড়তি প্রত্যঙ্গের বোঝা, সে পুরুষই কলেবরে বেড়ে গিয়ে অসম্মান করেছে নারীর সেই নমনীয়তাকে, বারেবার ভূল করেছে ‘দূর্বলতা’ ভেবে। আবার সেই অপরাধবোধকে ঢাকতে চেয়েছে ধর্মের খোলসে। ‘কালী’রুপে নারীর চিরন্তন দূর্বলতাকে ঢাকতে চেয়েছে শক্তির আধার হিসেবে, পূজা করেছে শক্তির জন্য। ‘স্বরস্বতি’র আরাধনা করেছে ধীশক্তির জন্য। নারীর সব্যসাচী রুপের মাঝে শান্তি খুঁজে পেয়েছে, কিন্তু রক্তমাংসের নারীকে প্রশংসা করেনি, ভেবেছে আস্কারা পেয়ে যাবে। অতএব, বানাও ‘দূর্গা’, তাতে দাও দশ হাত আর পূজা কর। কি অসাধারণ কৃতজ্ঞতা তোমার, মাটির দূর্গার বিসর্জনে তোমার চোখে জল আসে, কিন্তু তোমার নিজের বাড়িতে রান্নাঘরে চুলার তাপে, সেলাই মেশিনের ঘর্ঘর আওয়াজে, ঢেঁকিঘরের ধুপধাপের আড়ালে কত নারীর ‘মনুষ্যত্বের’ মৃত্যূ ঘটেছে সে হিসেব তোমার নাই, পুরুষ। তুমি তো শুধু তার ‘নারীত্ব’কে ভালোবেসেছো, টিকিয়ে রাখতে চেয়েছো!! তবুও, এই মাটির পৃথিবীতে হেলেনের জন্ম হয়, যার জন্য ট্রয় ধ্বংস হয়, বেথেলহেমের পুঁতিগন্ধময় ঘোড়ার ঘরে এক কুমারী কন্যা পৃথিবীর সবচেয়ে দুঃসাহসিক কাজের পরে বুকে আঁকড়ে ধরেন তাঁর শিশুপুত্রকে, স্ত্রী এ্যম্ফিরাইটের প্ররোচনায় সাগরদেবতা পসাইডন সমুদ্রে বইয়ে দেন প্রলয়ংকরী ঝড়, কখনও প্রেমে অন্ধ আফ্রোডাইট প্রচন্ড ক্রোধে এক করে দিতে চান স্বর্গ-নরক। কোন এক ‘এগনেস’ পরম মমতায় তাঁর শ্বেতশুভ্র হাত বাড়িয়ে দেন দগদগে ঘা-ওয়ালা শ্যমলা বরণ কোন কুষ্ঠরোগীর মাথায় হাত বুলাতে, তার জন্য স্কুল বানান, ঘরসংসার ছাড়ার ব্রত নিয়ে, হয়ে ওঠেন মাদার। কোন এক লক্ষ্ণীবাঈ স্বজাতির কাপুরুষ আর সুবিধাবাদী পুরুষদের লজ্জ্বা দিতে রাজনৈতিক সহমর্মীতার হাত বাড়িয়ে দেন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের দিকে। সারা পৃথিবীর বিরুদ্ধে কোন এক পরাশক্তিকে কূটনৈতিক প্রেরণা দিয়ে যান একজন কন্ডোলিজা রাইস। এভাবেই নারীর শ্বাশ্বত রুপটি হয়ে ওঠে ‘সকল কাজের কাজী’। বহুদিন আগে শোনা উক্তি মনে পড়ছে, ‘একজন মহিলা হলেন একটি টি-ব্যগের মত, প্রতিকূল পরিবেশেই যার রূপ বিকশিত হয়’। আসলেই তাই? স্ত্রী গত হবার সাথে সাথেই যদি পুরুষের নিঃসঙ্গতা আগের চেয়ে শতগুণে বেড়ে যায়, আর একই অবস্থায় কোন তরুণী মা হয়ত পাঁচজন সন্তান নিয়ে তীরহারা ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকেন, তখন টি-ব্যগের এই উদাহরণ একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় কি?

আপনার মতামত দিন:

(মন্তব্য পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নন।)
সম্পর্কিত ব্লগ