মেহেরপুরের ডাইরি ১
লিখেছেন নীলজোসনা, মে 8, 2018 1:29 পূর্বাহ্ণ

 

২ মে, সন্ধ্যা ৬:৫৬, কমলাপুর স্টেশন

‘চলো না ঘুরে আসি অজানাতে’র মতো অজানায় যাই। প্রায় পাঁচ বছর ধরে একটা জায়গার গল্প শুনি। একজনের সাথে কথা বলি। এইবার চলেছি তাঁকে দেখতে।

তার গল্প জায়গামতো করবো। এবার বলি যাবার গল্প। ছুটি কয়েকদিনের। এর মধ্যে অর্ধাঙ্গের ছুটি কম, তাই প্রথম অর্ধেকে কোন প্ল্যান করিনি। আজকেই দুপুরে ভাবলাম, যাওয়া চাই। স্টেশনে গিয়ে দুপর তিনটায় টিকিট পেলেন তিনি। আর বাসা থেকে বেরিয়েছি ছয়টায়। ট্রেন যথারীতি এক ঘন্টা লেট। কমলাপুর স্টেশনে আমার বাচ্চারা অক্লান্ত দৌড়ে বেড়াচ্ছে, আর আমি আমার শৈশব দেখছি। ট্রেনে করে দাদুবাড়ি যেতাম। আম্মুকে লুকিয়ে স্যুটকেসে একগাদা খেলনা, বই নিতাম। আম্মু হয়ত ধরে ফেলে রেখেও গেছেন। বাড়ি গিয়ে কি কি করব তিন ভাই-বোন গুজগুজ ফিসফিস করছি। আব্বু কিছুক্ষণ পরপর উস্কে দিচ্ছেন, পানি খাবা? ডিম খাবা? চা? বাথরুমে যাবা? ব্যাস, লাইন ধরে সবার সেই কাজ করতে হচ্ছে। আম্মুর ব্যাগে লোভনীয় নাস্তা আছে, সেটা ট্রেনে উঠলে।

প্ল্যাটফর্ম জুড়ে হাজারো মানুষের অপেক্ষা, মনিটরে ‘থ্রী স্টুজেস’ দেখে হা হা হাসছে ছেলেমেয়ে। খেলতে খেলতে দুটা বন্ধুও বানালো। বাসা থেকে সারাক্ষণই ট্রেনের ভেঁপু শুনি। আমার বারান্দা থেকে মস্ত থামের চারপাশে ঘেরা বসার জায়গাও দেখা যায়। তবু, দূরের দেখা আর কাছের দেখা, কি আলাদা, তাই না?

চলো রঙ, হারাই। আমরা কোথায় যাবো ভালোমতন জানিনা। জিগেস করে করে যাবো। এমন যাত্রায় ভারি মজা। চলো আমাদের সঙ্গে, আচ্ছা?

(ছবিঃ ইন্টারনেট, ফটোগ্রাফারঃ আরজুপনি )

Facebook Comments
পোস্টটি ৬৫১ বার পঠিত
 ২ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. ট্রেন যাত্রা বেশ আরামদায়ক।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Facebook Comment