আমি নারী আমি সভ্যতা ধারণ করি
লিখেছেন নাসরিন সিমা, মার্চ 8, 2020 8:05 অপরাহ্ণ

:^***
রোদ ওঠা শীতের সকালে, এক হাতে দুটো ব্যাগ আর এক হাতে স্বপ্নের হাত। তাড়াহুড়ো আর ছোটাছুটির এই দিন প্রতিদিন আসে। হাঁটতে হাঁটতে জরুরী কথা সেরে নেয়ার সময়গুলো ….. টিফিন ব্যাগের ঐ পকেটে, ছোট্ট ফ্লাক্সটায় কুসুম গরম পানি দেয়া আছে, আমি কিন্তু তোমার কাছে তখন আসতে পারবো না। গত বছরে কান্নার তোড়ে যাকে ক্লাসরুমে রেখে আসা যেতো না সে এখন একাকী নিজের টিফিন খুলে খায়। আমি ক্লাস নিতে শুরু করার দশ বিশ মিনিট পর কেদে চোখ ভাসিয়ে দিয়ে কাছে এসে হাজির হওয়া মেয়েটি আমার ছুটির পর অপেক্ষা করে কখন এসে হাজির হবে তার মা!

***
হোয়াইট বোর্ডে কালো কালির আঁচড় তুলি প্রতিদিন। পেছনে এক রুম ভর্তি ভবিষ্যৎ! খসখস করে সভ্যতা চাষে সহজ হবার জন্য প্রস্তুত হয়! শব্দের চাষ করে কখনো হরফে, বর্ণে, অংকে, লেটারে। চোখে কারো দুষ্টুমি, কারো নিখাদ বিনয়, কেউবা বেয়াদবি করে ধরা খেয়ে গেলে নির্বিবাদে হজম করে বেত্রাঘাত। রাগান্বিত কন্ঠের শব্দে বুঝে নেয় কি করতে হবে। কোন কথা না বলে, না মেরে অপলক তাকিয়ে থাকলেও নিরব হয়ে যাওয়া এ ক্লাসরুমগুলো আগামীর সম্ভাবনা! দু একটা স্টার পেয়ে যাওয়া আনন্দ টাকার মূল্যে গোনা সম্ভব? কি হতে চাও প্রশ্ন করলে যখন বলে আপনার মতো মিস হতে চাই তখনও দায়ভার বেড়ে যায় আরো বেশি।

***
প্রাইমারি লেভেল পার হওয়া মানুষগুলো কে একটু খানি ভারী নৈতিকতা শেখাতে গিয়ে বুঝি এটা শুধু পেশা নয় গুরুভার! এই প্রত্যেকটি মানুষ ভুলে যাওয়া এই টিচারকে সালাম দিয়ে এসেম্বলিতে দাঁড়ানোর আগে বিনয় সহকারে খুব দায়িত্ব নিয়ে স্মরণ করিয়ে দেয় –
মিস হাজিরা খাতা
মিস ডাস্টার
মিস স্কেল (যদিও ওটা দিয়েই মার খায়! 😃)
মিস মার্কার!

***
আবার এই ছোট্ট পরিসরেও সমমানের মানুষগুলো যখন হিংসা করে, তখন মন খারাপ হয়ে যায়। আবার আশান্মিত হই এইভেবে ভালো কাজে সমালোচক না থাকলে সাওয়াবের ভার কমই হয় বৈকি!

***
ফিরতি পথে এক ক্ষুদের মায়া চেহারা চোখে আর অন্তরে ভাসিয়ে নিয়ে ছুটি। অপেক্ষাটুকু বুঝে গেছে যেন!

***
সভ্যতা চাষের এ মূল্য আমার গত হয়ে যাওয়া বাবা দিয়ে গেছেন, শিক্ষক পরিবার হিসেবে চিহ্নিত করলে ভূল কিছু হবে না। আমাদের মা! তিনিও একসময়, এই কাজ করেছেন। “এটা শুধু পেশা নয় গুরুভার “!

Facebook Comments
পোস্টটি ৪৩৫ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Facebook Comment