ফাতিমা আল ফিহরি
লিখেছেন নাসরিন সিমা, মে 18, 2020 10:59 অপরাহ্ণ

ফাতিমা আল ফিহরি
– নাসরিন সুলতানা সিমা অনূদিত

আল ফিহরি বর্তমান তিউনিশিয়ায় জন্মগ্রহন করেন। তিনি আরবের কুরাইশ বংশদ্ভুত। কুরাইশিয়্যা, বা দ্যা কুরাইশিয়্যান নামে পরিচিত। তার পরিবার অনেকটা সময় কায়রোয়ানে কাটিয়েছে। তার বাবা মোহাম্মাদ ফিহরি একজন সফল ব্যবসায়ী

তিনি এবং তার বোন মারিয়াম সুশিক্ষিত। ফিকহ আর হাদীসের ব্যাবহার শাস্ত্র নিয়ে পড়াশুনা করেছেন। দুজনেই মসজিদ নির্মান করেছেন। ফাতিমা নির্মান করেছেন আল-কারাউয়্যিন আর মারিয়াম নির্মান করেছেন আল-আন্দালুস। ঐতিহাসিক ইবন আবি জারা ১৪ শতাব্দীতে ফাতিমা ফিহরির ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে একটুখানি লিখেছেন। সেখানেই জানা গেছে ১৩২৩ সালে আল কারাউয়্যিন লাইব্রেরীতে আগুন লেগে অনেক ক্ষতি হয়ে যায়। আল ফিহরি তখন বিবাহিত। কিন্তু তার বিয়ের পর খুব কম সময়ের মধ্যে তার বাবা ও স্বামী মারা যান। তার বাবা সমস্ত সম্পদ দুজনের (দু বোনের) জন্যই রেখে যান।

আল ফিহরি তার বাবার থেকে পাওয়া সেই টাকা রাজা ইয়াহিয়া ইবন মুহাম্মাদের পরামর্শে মসজিদ পুনঃনির্মানের কাজে লাগান। নতুন করে নির্মান করেন আগের চেয়ে বেশি জায়গাজুড়ে।

এই নির্মান প্রজেক্ট ফাতিমা নিজে তত্ত্বাবধান করেন।
মসজিদের ভিত্তিতে অমিতব্যায়িতার ছাপ। আল ফিহরি এটাকে মার্জিতভাবে উপস্থাপন করেছেন। তিউনিশিয়ান ঐতিহাসিক হাসসান হোসনি আব্দেল ওয়াহাব আল ফিরহিকে তার বইয়ে উল্লেখ করেছেন বিখ্যাত তিউনিশিয়ান মহিলা হিসেবে। তিনি লিখেছেন –

“ফিরহি জমিটি কিনে শুধুমাত্র মসজিদের কাজেই ব্যবহার করেছেন। গর্তের পর গর্ত করে হলুদ বালি, প্লাস্টার, এবং পাথর ব্যাবহার করেছেন।

মসজিদটি ১৮ বছর ধরে সংস্কারের আওতায় ছিলো। মরোক্কান ঐতিহাসিক আব্দেল হাদি তাজি উল্লেখ করেছেন – আল ফিহরি প্রকল্পের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত রোজা রেখেছেন। যখন শেষ হলো তিনি মসজিদের ভেতরে গিয়ে নামাজ পড়েছেন রব্বুল আলামীনকে ধন্যবাদ দিয়েছেন তাঁর রাহমাহ বর্ষনের জন্য। তিনি তার অভিবাসি শহর কায়রাউন থেকে এটার নামকরণ করেছেন।

আল কারাউয়্যিন এখনও দাঁড়িয়ে আছে তার ছোট বোন ফাতিমার মসজিদ আল আন্দালুসের নিকটে।

মসজিদ নির্মান শেষ হওয়ার পর ইউনিভার্সিটি অব আল কারাউয়্যিন প্রতিষ্ঠিত হয়, আল ফিহরি ইবাদাতের স্থান থেকে জায়গা বাড়িয়ে ইউনিভার্সিটি অব আল কারাউয়্যিন দাঁড় করান। কখনও কখনোও এটাকে পৃথিবীর সবচেয়ে পুরাতন বিশ্ববিদ্যালয় বলা হয় যা এখনও চালু আছে। ভিন্ন রকমের অধ্যয়ন ব্যাবস্থার জন্য পুরস্কারের জন্য মনোনীত একটি বিশ্ববিদ্যালয়। এই কোর্সে ইসলামিক স্টাডিজ, গনিত, গ্রামার আর মেডিসিন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

লাইব্রেরী আল কারাউয়্যিন অনেক পুরাতন বিবেচিত হয়। সম্প্রতি এটি পূনঃনির্মাণ করেন কানাডিয়ান – মরোক্কান ইঞ্জিনিয়ার আজিজা চৌহান এবং মে ২০১৬ সালে পাবলিকলি খুলে দেন। লাইব্রেরীর সংগ্রহে ৪০০০ পান্ডুলিপি যুক্ত নবম শতাব্দীর কুরআন এবং পূর্বের হাদীস রাখা হয়েছে।

তাঁর মৃত্যুর পর লাইব্রেরি আর ইউনিভার্সিটি কয়েক বছর চালু ছিলো।

References
Wikipedia
References Edit
Kenney, Jeffrey T.; Moosa, Ebrahim (2013-08-15). Islam in the Modern World. Routledge. p. 128. ISBN 9781135007959.
“Fatima al-Fihri: Founder of the world’s first university”. Manchester University Press. March 8, 2018.
“Meet Fatima al-Fihri: The founder of the world’s first Library”. January 26, 2017.
Kahera, Akel; Abdulmalik, Latif; Anz, Craig (2009-10-26). Design Criteria for Mosques and Islamic Centres. Routledge. p. 81. ISBN 9781136441271.
“كتاب – شهيرات التونسيات”. k-tb.com. Retrieved 2019-09-09.
التحرير, هيئة (2019-04-09). “فاطمة الفهرية أم
Further reading Edit
“Kairaouine Mosque, Fes”. Sacred Destinations.
“The Al-Qarawiyyin Mosque”.

Facebook Comments
পোস্টটি ৯২২ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. ওয়াও….. সংগ্রহে রাখার মতো লেখা!

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Facebook Comment