নিশীথিনীর কথোপকথন
লিখেছেন উম্মে জয়নাব, মে 28, 2020 6:16 অপরাহ্ণ

তোমার সাথে কথা না বললে এতো হাঁশফাস লাগে কেন?
অভ্যেস হয়ে গিয়েছিলো হৃদয়ের!
এখনো যে কথা বলে  চলেছি দিনরাত্রি, 
বাধ্য হচ্ছি তুমি আজ ধ্রুবতারা বলে!
বিকেলের টি-টাইমে দু’কাপ চা নিয়ে বসি থাকি কেন?
তোমার সাথে গল্প করতে করতে চা খেতে ভালোবেসে ফেলেছিলাম যে!
অথচ কিছুকাল আগেও চায়ের মগ হাতে বাড়ান্দায় দাড়িয়ে আকাশ দেখতুম নিরিবিলি!
তোমার সেই মগটার কথা মনে আছে?
যার গায়ে লেখা ছিলো তোমার হাতের লেখা সেই নজরুলের প্রিয় ক’টি লাইন!
মনে থাকবে না আবার….
“আমি চিরতরে দূরে চলে যাবো, তবু…
থাক আর গেয়ো না…
রাতের বেলা দখিনের জানালায় দাড়িয়ে থাকি কেন?
কোন এক বৃক্ষমেলায় তোমার কেনা কাঠগোলাপের গাছটি!
তোমার প্রস্হানের পর ফুলেরা আসতে শুরু করেছে….
সাদা রঙের মাঝে হলদে আভা,মিষ্টি গন্ধে যখন শেষরাতে ফুটতে শুরু করে
আমার খুউব অভিমান হয় জানো তো…
তোমার যে হালকা গোলাপী কাঠগোলাপ বেশী প্রিয় ছিলো…
সকালের শিশিরে মুঠোভরতি করে কুড়োতে পারিনে যে!
শেষরাতে জানালার গ্লাস খুলে দিতেই যখন,
নীল পর্দায় দোদুল দুল,মৃদু বাতাসের খেয়া
আজ তো বয়!
সেই অনিলে বুঝি তুমি রোজ আসো তাই না?
আমি বুঝি কি করে জানতে চাও তো?
এতো চিরচেনা ঘ্রাণ কি আমি ভুলতে পারি..!
আমার ঘ্রাণশক্তি এতো প্রখর বলে কি বলতে মনে আছে?
সিআইডি টিমে ডগ স্কোয়াড হয়তো অচিরেই চাকুরীচ্যুত হবে!
হি হি, এখন বড্ডো হাসি পাচ্ছে জানো অথচ,তখন রাগে গাল ফুলায়ে একবেলা কেটে যেতো!
এসব বলতে বুকের ভিতরটা এমন তোলপাড় করছে কেন!
এক টুকরো ভারী পাথর বুঝি বুকের ভিতর!
আমি কি অঝোরে কাঁদবো এখন তুমি জানো না বুঝি!
কাঁদবো কেন? কে মুছে দেবে এ উষ্ণ স্রোত!
তুমি ভাবছো এখনো বুঝি বাচ্চামি করে কান্না করে সব এলোমেলো করি!
গত দু’মাসে এমন নিঃশব্দে বৃষ্টিধারা ঝরেছে,কেউ তো শুনতে পায়নি!
অবাক হচ্ছো যে বড়ো, তোমায় চাঁদের কনা খুবাইব সেও তো জেগে ওঠেনি!
জানি তো বড্ডো আদর দিতে ইচ্ছে করছে ওর নরম গালে!
এইতো দেখো না তোমার হয়ে আমি ওর
আরক্তিম গালে সিক্ত  করে দেই অনবরত চুম্বনে!
ঘড়ির কাটায় রাত বারোটার ঘন্টা বন্ধ করে দিয়েছি।
বড্ড অসহ্য লাগে রাত বারোটা,
তোমার ডাক্তারী জীবনের অবসরহীন ছোটাছুটি, গভীর রাতে কাঁচুমাচু মুখে বাড়ি ফেরা।
আমি আর অভিমান করবো না, 
একটুও বকবো না,আড়ি দেবো না!
ছোট্টুও ডাক্তার হতে চায়,আমার সহ্য হয় না,কিছুতেই না…
রাত্রির আকাশে জ্বলে থাকা নক্ষত্রের মতোন ক্লান্ত আমি!
তোমার সাথে আমার কথোপকথনের কি শেষ আছে বলো!
বড্ডো বাড়াবাড়ি করছি আমি,তাই মনে হয় তোমার!কি বললে,ভুল বকছি আমি আর বিশ্রাম দরকার!
তোমার ডাক্তারী তোমায় আজো ছেড়ে গেলো না!
আমার বড্ডো ঘুম পায়  দীঘল রাত্রির নির্ঘুম তন্দ্রা শেষে,
যেখানটায় তুমি আমি বসে আকাশভরা জোসনা দেখতুম সারারাত!
সলিল চৌধুরী সেই গানটা তোমার কন্ঠে,
“আমায় প্রশ্ন করে নীল ধ্রুবতারা
আর কত কাল আমি রব দিশাহারা…..”
থাক না গানটা আর নাই বা শুনবো।
অনবরত কথোপকথনে তুমি সঙ্গী হয়ে থেকো শুধু…….!
তোমার সবুজ ঘাসে ঢাকা নতুন আবাসের পাশেই,
মাধবীলতার গাছটা কেমন নতুন পাতায় ফুলে ভরে উঠেছে! 
আমার খোঁপার যেমন গুঁজে দিতে একগুচ্ছ মাধবীলতার শাখা….
সেদিন জানো, ছোট্টু বেলীর চারা বুনে দিয়েছে পাশেই!
কেমন সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছি আমাদের নতুন আবাস!
আমি যেমন সুন্দর করে গুছিয়ে রাখতাম আমাদের ছোট্ট বাসাটা…
একটু এলোমেলো অগোছালো করলে কেমন ফুঁসে উঠতাম,
ছোট্টু আর তোমায় বকতাম,জানো তো এখন ছোট্টুকে বকতে গেলে বড্ডো কন্ঠটা ধরে আসে!
আমি বকতে ভুলে গেছি, হাসতে ভুলে গেছি!
খুয়াইবের হাসির জোকস শুনে হাসি পায় না,খুউব খুউব করে কান্না পায়!
দৌড়ে ওয়াসরুমে চলে যাই,
আমি হাসতে ভুলে গেছি জানো!
হাসির কথা না হয় থাক,
চলো বাকী রাতটা গল্প করি…
এমনি করে চলুক না হয় নিশীথিনী’র কথোপকথন!

Facebook Comments
পোস্টটি ৩৩৫ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
১ টি মন্তব্য
একটি মন্তব্য করা হয়েছে
  1. অসাধারণ.. লেখার মাঝে কিছুটা স্পেস থাকলে ভালো হতো।

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Facebook Comment