অনুভবের আড়ালে
লিখেছেন উম্মে জয়নাব, সেপ্টেম্বর 2, 2018 7:37 অপরাহ্ণ
 গত পনেরোটি দিন ধরে নির্ঘুম সুহাইলা কেমন অস্হিরতায় সময় কাটছিলো তার।নাওয়া-খাওয়া ঘুম একদম হারিয়ে গিয়েছিলো মন থেকে, বিষন্নতায় ডুবে থেকেছে।বইয়ের পাতায় মুখ লুকিয়ে, চায়ের মগে অনবরত চুমুকে, সে বিষন্নতা মন থেকে হাওয়া হয়ে যায়নি।বান্ধবীদের সাথে আড্ডা,পছন্দের জায়গায় ঠু মেরে এসেও আবার নিসঙ্গতা পেয়ে জড়িয়ে ফেলেছে তাকে।নিজেকে প্রশ্ন করে জবাব মেলাতে চেষ্টা করেছে,কি হয়েছে তার? কেন এমন আনমনা লাগছে? কোথাও কি ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে সে?কতো প্রশ্নের মাঝে বেমানান লাগে নিজেকে। সুহাইলা কেমন সবসময় অস্হির থাকে,মাহবুবের সাথে স্বাভাবিক হতে পারছে না। সেদিন অফিসে দুপুরের খাবার পৌছে দিতে গিয়েছিলো সে, অফিসের পিওনকে ঘানাঘুষা করতে শুনেছে,গুঞ্জনের মাঝে নিজেকে দমবন্ধ লাগছিলো।বুদ্ধিমতী,বিদূষী রমনী হয়েও,তৎক্ষানাত বিবেচনার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছিলো।বাসায় চলে আসে সুহাইলা, রাতে প্রচন্ড জ্বর সাথে তীব্র মাথা ব্যথা। জ্বরের ঘোরে কিসব বকতে থাকে সে।বাসায় ফিরোজা খালা সন্ধ্যা পর্যন্ত পাশে ছিলেন,রাতে মাহবুব এসে মাথায় পানি দিয়ে দেন,ঔষুধ খাওয়ালেন। সকালে সুহাইলা ইখতিয়ারকে নিয়ে বাবার বাসায় চলে আসার অনুমতি চায়।মাহবুবের সাথে সে কখনো মুখোমুখি হতে চাইনি,কিন্তু মাহবুব অনেক অনুরোধ করে তার সমস্যা,কষ্টের কথা জানতে। অফিস থেকে শুনে আসা গুঞ্জনের সত্যতা,নিয়ে কথা বলতে ভাবতেই পারে না সে।সকালে ইখতিয়ারের নানুভাই আসেন হাসিমুখে,তিনি তাদের দু’জনকে অবকাশ দিতে চান, ভাবার জন্য।মেয়েকে নিয়ে আসেন বাসায় , কিছুদিন নির্বিঘ্নে বাস্তবতা উপলব্ধির জন্য। একদিন সকালে, সুহাইলা বাবাকে চা করে দেয়,বাবার পাশে বসে।বিয়ের আগে সুহাইলা, ভোরে বাবার পাশে এসে বসতো,একটানা কুরআন তিলওয়াত শুনতো বিভোর হয়ে। বাবার সুমধুর কন্ঠে তন্ময় হয়ে যেতো,ইখতিয়ারও তেমনি নানুভাইয়ের মতো দরাজ কন্ঠ পেয়েছে। “وَالَّذِينَ هُمْ لِفُرُوجِهِمْ حٰفِظُونَ। إِلَّا عَلٰىٓ أَزْوٰجِهِمْ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمٰنُهُمْ فَإِنَّهُمْ غَيْرُ مَلُومِينَ।فَمَنِ ابْتَغٰى وَرَآءَ ذٰلِكَ فَأُولٰٓئِكَ هُمُ الْعَادُونَ”…… বাবার কণ্ঠে আয়াতগুলো শুনে ছলছল করে কেঁদে ফেললো সুহাইলা,নিজেকে স্বাভাবিক করতে বাড়ান্দায় উঠে এলো।একটুপর বাবাও উঠে এলেন,পিছন থেকে কাধে হাত রেখে দাড়ালেন,বাবার স্পর্শে ছোট্ট খুকির মতো কেঁদে উঠলো সে।বাবা এবার বললেন,মাহবুবের সাথে কথা হয়েছে,তার সাথে স্পস্ট কথা হয়েছে।নয়টায় আসবে বলেছে,তোরা কথা বল, খোলাখুলি। একটুপর কলিংবেলের আওয়াজ।মাহবুব সাহেব এসে বসলেন,সুহাইলার কাছে এসে বললেন,দেখো, “কুরআনের যে আয়াতগুলো তোমাকে প্রশান্তি দিয়েছে,আমাকেও প্রশান্তি দেয়।তুমি আমার সুন্দরভাবে থাকার কারিগর,আমার ছোট্ট পা-পিছলে পড়ে যাওয়াও তুমি সহ্য করতে পারো না,আমাকে দৃঢ় করে আগলে রেখেছো,সেজন্য আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা। “সুহাইলা চুপচাপ শোনে,ইখতিয়ার এসে আম্মু-আব্বুকে জড়িয়ে ধরে।মাহবুবে তার কপালে বড় একটা চুমু একে দেন।

 

Facebook Comments
পোস্টটি ৩৬০ বার পঠিত
 ১ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Facebook Comment