ভ্রান্তির বেড়াজালে নারী শিক্ষা
লিখেছেন সাজেদা হোমায়রা, ডিসেম্বর 29, 2019 9:26 পূর্বাহ্ণ

আমি বুঝি না, সমাজের কিছু মানুষ কেন মেয়েদের জ্ঞানার্জনের ব্যাপারে এমন অশ্রদ্ধার সাথে কথা বলে! ইসলামের দোহাই দিয়ে তারা মেয়েদের কে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করতে চায়! মেয়েদের প্রতিভা বিকাশের পথকে রুদ্ধ করতে চায়! তাদের কে ঘরের ভেতর বন্দি করে রাখতে চায়!

‘নারী শিক্ষা’ নিয়ে সমাজে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হয়। বেশিরভাগ সময়ই তা হয় ধর্মীয় উপদেশ, ওয়াজ আর বয়ানের সময়। নারী শিক্ষার ব্যাপারে বলা হয়, ইসলামে নারী শিক্ষা হারাম, মেয়েদের পর্দার বাইরে যাওয়া নিষেধ, বেশি পড়াশুনা করলে মেয়েরা উচ্ছন্নে যাবে ইত্যাদি।

কিন্তু ইসলাম তো কখনোই নারী শিক্ষার বিরোধী নয়। কুরআনের কোথাও তো জ্ঞান/শিক্ষার যোগ্যতা এককভাবে পুরুষ কে দেয়া হয়নি।
রাসূল সা. বলেছেন, “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের (নারী ও পুরুষ) জন্য ফরজ।”
ইসলাম কখনোই মেয়েদের অবরুদ্ধ করে রাখেনি।

রাসূল সা. এবং সাহাবীদের যুগে জ্ঞান চর্চা, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এমনকি যুদ্ধের ময়দানেও মেয়েদের অনন্য ভূমিকা ছিলো। মজলিশে শূরা/ পরামর্শ সভাতেও মহিলা স্কলারদের দেখা গিয়েছে। মহিলারা তাদের যোগ্যতা ও দক্ষতা অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন।

রাসূল সা. নারীদের মতামত ও যোগ্যতা কে সবসময় গুরুত্বের সাথে দেখেছেন।

নারী শিক্ষার এমন উৎসাহের কারণে আমরা আয়েশা রা.এর মতো মহিলা স্কলার দেখতে পাই। ইসলামের প্রায় ৩০% হাদীস তাঁর থেকে বর্ণিত হয়েছে।
তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষক, বিশ্লেষক, বিদুষী একজন বুদ্ধিজীবি।
তিনি শুধু মেয়েদেরই নয়, ছেলেদেরও শিক্ষা প্রদান করতেন। আবু মূসা আশয়ারী রা. বলেন,
“আমাদের মাঝে যখনই কোন হাদীসের বিষয় নিয়ে সমস্যা দেখা দিতো, আমরা তখন আয়েশা রা. এর কাছে তা জিজ্ঞেস করলে তার সমাধান পেয়ে যেতাম।”

উসমান রা.এর শাসনামলে আয়েশা রা. সরকারের সমালোচনা করেছেন। মুয়াবিয়ার শাসনামলে তিনি সরকারকে পরামর্শ দিয়েছেন। এমনকি তিনি কয়েকটি যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করেছিলেন।

হুদাইবিয়ার সন্ধির সংকট মোকাবেলায় রাসূল সা. তাঁর স্ত্রী উম্মে সালমা রা. এর পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন।

উমর রা. শিফা বিনতে আবদুল্লাহ নামে একজন মহিলা সাহাবীকে মদীনার সবচেয়ে বড় মার্কেটের পর্যবেক্ষক হিসেবে নিযুক্ত করেছিলেন। তিনি ছিলেন খুব শিক্ষিত এবং বিচক্ষণ নারী। উমর রা. প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে তাঁর পরামর্শ নিতেন।

খাদিজা রা. একজন বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিইও ছিলেন।

রুফাইদা আল আসলামিয়া- তিনি ছিলেন প্রথম মুসলিম মহিলা চিকিৎসক। তিনি আহতদের সেবায় মসজিদে একটি তাঁবু করেছিলেন। খন্দকের যুদ্ধের সময় তিনি সেখানে যুদ্ধাহত মুসলিম সেনাদের চিকিৎসা দিয়েছেন।

বর্তমান পদ্বতির জানাজার নামাজের পরামর্শ দিয়েছিলেন আসমা বিনতে উমাইস।

এগুলো অল্প কিছু উদাহরণ।
বিভিন্ন রিসার্চ থেকে জানা যায়, ইসলামের ইতিহাসে এমন প্রায় আট হাজার নারী স্কলার ছিলেন, যারা কেবল ঘর সংসারই করেননি বরং জ্ঞান আহরণ করেছেন, বিতরণ করেছেন।

সুতরাং ইসলামের কারণ দেখিয়ে মেয়েদের কে ঘরের ভেতর আবদ্ধ করে রাখার প্রচেষ্টা ও আলোচনা অজ্ঞতারই পরিচয় বহন করে।

Facebook Comments
পোস্টটি ৭৮০ বার পঠিত
 ০ টি লাইক
০ টি মন্তব্য

আপনার মুল্যবান মন্তব্য করুন

Facebook Comment